শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধি, ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও বেশি | যশোর জার্নাল অভয়নগরে ঈদ মেলায় ফুচকা খেয়ে অসুস্থতা: দোকানি গ্রেফতার | যশোর জার্নাল সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা: বিচারের অপেক্ষায় এক যুগ | যশোর জার্নাল নরসিংদীতে গণপিটুনির প্রতিবাদ করায় দুই ভাইকে হত্যা | যশোর জার্নাল যশোরে ঈদের দিন সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত চারজন | যশোর জার্নাল যশোরে যুবকের লাশ উদ্ধার: পাশে মোটরসাইকেল ও কাঠের টুকরা |যশোর জার্নাল যশোরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেফতার | যশোর জার্নাল সড়কে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সাথে ইফতার করলেন পুলিশ সুপার যশোর | যশোর জার্নাল যশোরে শিশু অপহরণের মূলহোতা আটক, মুক্তিপণের টাকা উদ্ধার | যশোর জার্নাল নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন যশোর জেলা পুলিশ | যশোর জার্নাল

নিষিদ্ধ হলেও যশোরে নোট গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা অব্যাহত | যশোর জার্নাল

যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ

নিষিদ্ধ হলেও যশোরে নোট গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা চলছেই। সৃজনশীল মেধা বিকাশ নিশ্চিতে বিগত ২০০৮ সালে উচ্চ আদালতের এক আদেশে নোট বইয়ের পাশাপাশি গাইড বই নিষিদ্ধ করা হয়। আর আইনটি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু তারপরও গত ১৩ বছর ধরে কয়েকটি ছাপাখানার মালিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শ্রেণির ‘একের ভেতর সব’ নাম দিয়ে তৈরি গাইড সহায়ক বই ছাপিয়ে প্রকাশ্যে বাজারজাত ও বিক্রি করেছে। আর ওই ব্যবসা করে গত ১৩ বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিন্ডিকেট। পুস্তক ব্যবসায়ী ও এনসিটিবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নোট ও গাইড বইয়ের প্রকাশকরা একশ্রেণির ইউএনও, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষক সমিতির সহযোগিতায় নোটগাইড বইয়ের বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে। এমনকি খোদ রাজধানীতে এনসিটিবি ও শিক্ষা অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তা এই ধরনের বাণিজ্য টিকিয়ে রেখেছে। কারোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কোনো নজির নেই। আর বিসিএস সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা অবৈধ গাইড বই কোম্পানিতে গোপনে মাসিক বেতনে চাকরি করছেন। তারা ওসব কোম্পানির নোটবই লেখার কাজ করেন। সূত্র জানায়, সরকার থেকে প্রতি বছর পয়লা জানুয়ারিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দেয়া হয়। এনসিটিবির অনুমোদন ব্যতীত পাঠ্যতালিকায় অন্য কোনো বই ব্যবহার না করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও বিনা মূল্যের পাঠবই মুদ্রণের আগেই সরকার নিষিদ্ধ বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির নোট ও গাইড বই বাজারে আসতে শুরু করেছে। অথচ মূল বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর আগে পাঠ্যবইয়ের কোনো বিষয়বস্তু (কনটেন্ট) বাইরের কারোরই জানার বা দেখার সুযোগ নেই। তা সেত্ত্বেও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের একশেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বইয়ের সিডি (মুদ্রণের ‘র’ কপি), নম্বর বণ্টন ও সিলেবাসের আগাম তথ্য মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে। নোট গাইড ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রেস মালিকদের হাতে চলে গেছে। আর প্রেস মালিকরা মূল পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ বাদ দিয়ে এখন ‘সহায়ক বই’ নামের নোট গাইড বই ছাপানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে। ফলে সরকারের বিনামূল্যের ৪১ কোটি পাঠ্যবই সময়মতো ছাপা ও বিতরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এনসিটিবির কর্মকর্তারা সম্প্রতি দুটি ছাপাখানা পরিদর্শনে গিয়ে নোট গাইড বই ছাপানোর বিষয়টি হাতেনাতে ধরেছে। শিক্ষা খাতে এমন অপকর্মে জড়িত পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারী ও নোট গাইড প্রকাশকদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা অধিদপ্তর।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত